Browse Category by ব্যাবসা
উদ্যোক্তা, ব্যাবসা

অনলাইন ব্যবসায় নামার আগে

প্রায় ৬ মাসের লকডাউনে নানা কারণে অনেকেই অনলাইনে নানা ধরণের ব্যবসা শুরু করেছেন বা করছেন। অনেকে সফল হয়েছেন, অনেকে হয়তো তেমন হননি। সামনের দিনগুলোতে অনলাইন ব্যবসার এই জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে, আরো অনেকেই হয়তো এখনই পরিকল্পনা করছেন শুরু করার। তো, শুরু করার আগে কিছু বিষয় সম্বন্ধে জেনে নিলে আশা করি সবার ব্যবসায় সফল হবার সম্ভাবনা কিছুটা হলেও বাড়বে ইনশাআল্লাহ।

হোমওয়ার্ক করে নিনঃ যে কোন বড় কাজে নামার আগে তা সম্বন্ধে ভালোভাবে জেনে নেওয়ার কোন বিকল্প নেই। আপনি যেই ব্যবসাই শুরু করতে চাচ্ছেন, সেই ব্যবসার পণ্য, ভোক্তা, এবং অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সম্বন্ধে অবশ্যই পর্যাপ্ত ধারণা থাকা উচিৎ। আপনার পণ্যের চাহিদা কেমন, আপনার পক্ষে সহজে তা সংগ্রহ বা প্রস্তুত করা সম্ভব কি না, যারা কিনছে তাদের কোথায় পাওয়া যেতে পারে, ডেলিভারি কিভাবে দেওয়া যেতে পারে, অন্যরা কি কি কাজ ঠিক করছে আর কি কি ভুল করছে – এসব ভালভাবে জেনে নেওয়া আপনাকে ব্যবসায় অনেক এগিয়ে রাখবে ইনশাআল্লাহ। 

হুজুগে নামবেন নাঃ অন্য কেউ একটা ব্যবসায় সফল হয়েছে তারবমানে এই না যে আপনিও এটাতেই সফল হবেন। সবাই মধু বিক্রি করছে- তাই আমিও করি – এভাবে হুজুগে কিছু করবেন না। যেটা নিয়ে ব্যবসা করবেন সেই কাজে আপনি আসলেই দক্ষ কি না, আপনার পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক আছে কি নাম, বাজারে এখনো সেটার চাহিদা আছে কি না – এসব জেনেই শুরু করুন। 

নেটওয়ার্ক বাড়ানঃ যেকোনো ব্যবসায় নামার আগে সে ব্যবসার সাথে রিলেটেড নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কাজে নামুন আগে। আপনি যদি পাঞ্জাবির ব্যবসা করতে চান, তাহলে কাপড়ের ব্যবসায়ী, কারিগর, দোকানদার, সাপ্লাইয়ার, এভাবে এই সংক্রান্ত যতজন পারেন তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন, সাথে এই ব্যবসার গতিপ্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করুন। একটা ভালো নেটওয়ার্ক আপনার ব্যবসায় লাখ টাকার মূলধনের চেয়েও বেশি মূল্যবান হতে পারে।

দাম ঠিক করুন হিসেব করেঃ আপনার পণ্যের দাম নির্ধারণ খুবই, খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি  ব্যাপার। নতুন ব্যবসা শুরু করতে আসা অনেকেই শুধু কত টাকায় কাঁচামাল কেনা হল  বা পাইকারী সংগ্রহ করা হলো সেটার সাথে নিজের কত লাভ দরকার সেটা হিসেব করেই দাম নির্ধারণ করে ফেলেন, সেটা বাজারের বাকিদের চেয়ে কম হওয়ায় কাস্টমার পাবেন এটা ভেবে খুশি হন। হয়তো শুরুতে পানও। কিন্তু পরে দেখা যায় আনুষঙ্গিক আরো খরচ থাকায় শেষ পর্যন্ত ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার মত লাভই আসে না। এই ভুল করা যাবে না।

ভালোভাবে ভেবে সব ধরণের খরচ হিসেব করে দাম নির্ধারণ করবেন। শুধু কাঁচামাল এর খরচ না, প্যাকেজিং খরচ, মালামাল সংগ্রহের যাতায়াত ভাড়া, কুরিয়ার চার্জ, সিস্টেম লস, অফার দিতে খরচ হওয়া, মার্কেটিং ইত্যাদি যাবতীয় খরচ হিসেব করে তারপরই দাম নির্ধারণ করবেন, যেন ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার মত লাভ আপনার উঠে আসে।  

অনলাইন দোকান সাজানঃ অনলাইনে যেই ব্যবসাই করেন না কেনো, আপনার কাস্টমার আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনলাইনের কোন প্ল্যাটফর্ম যেমন ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ ব্যবহার করবে। আপনার সেই অনলাইন দোকানটা যেন কাস্টমারের ব্যবহারের জন্য গোছানো, সহজ ও সুন্দর হয়, সেদিকে অবশ্যই  খেয়াল রাখবেন। লোগো, নাম ইত্যাদিও কাস্টমার আকৃষ্ট করাতে ভূমিকা রাখে। এসব কাজে পেশাদারদের সাহায্য নিলেই সবচেয়ে ভালো হয়। অবশ্য যদি বিনিয়োগ খুবই কম রাখতে চান, তাহলে নিজেও করতে পারেন।

মূল ফোকাস ভোক্তার সন্তুষ্টিঃ যেকোনো ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এবং উন্নতি করতে মূল ব্যাপার হলো আপনার কাস্টমার কতটা সন্তুষ্ট আপনার সার্ভিসে। এর জন্য আপনার পণ্যের মান তো অবশ্যই; সেই সাথে সব কাজে সর্বোচ্চ সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা, after-sales-service অর্থাৎ পণ্য বিক্রির পর ভোক্তার ফিডব্যাক নেওয়া, কোন সমস্যা হলে সেটা দেখা, এসব ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো পণ্য পৌছানো, ভালো প্যাকেজিং এসব দিকেও আপোষ করা চলবে না। মোটকথা – আপনার কাস্টমারকে এমনভাবে সার্ভিস দিতে হবে যেন তিনি কোন অভিযোগের সুযোগ না পান এবং অন্যদের ও রেকমেন্ড করেন আপনার পণ্য।

মেজাজ হারানো যাবে নাঃ আপনার কাস্টমার যতই বিরক্তিকর ব্যবহার করুক না কেন, আপনার মেজাজ হারালে চলবে না। খুবই ধৈর্যের সাথে এবং ভদ্রভাবে কাস্টমারের সাথে ইন্টার‍্যাকশন করতে হবে। অনেক সময় আপনার পণ্যের চেয়ে আপনার ভালো ব্যবহারই কাস্টমারকে সন্তুষ্ট করতে বড় ভূমিকা রাখে।

অনলাইন ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো। নিশ্চয়ই এর বাইরে আরো অনেক কিছুই জানার আছে। আপনাদের ব্যবসা শুরুর আগের হোমওয়ার্কে সেসব জিনিস নিয়ে আর অনেক জানবেন অবশ্যই। আল্লাহ সবার হালাল ব্যবসায় ভরপুর বারাকাহ দিন।