Browse Author by Ebad Bin Siddik
Ebad Bin Siddik has been writing since childhood. He is also a graphic designer and web developer and founder and CEO of popular IT services company Syltech Creative Agency (www.syltechbd.com).
ধর্ম, সমাজচিন্তা

আলকুরআনে সামাজিকতার সবক – ১

আলকুরআনে সামাজিকতা

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সাথে মিশেই গড়ে নিতে হয় জীবন। নিজেকে পরিচালনা করতে হয় আদব-আখলাকে, কথাবার্তায়, চলাফেরায় সামাজিকতার আদর্শ রূপে। যে আদর্শে থাকবে নৈতিকতা, উত্তম চরিত্রের বাস্তব প্রকাশ, সে আদর্শকেই লালন করে জীবনকে করতে হয় সুন্দর। যোগ্যতা আর সামাজিকতা এক নয়; দু’টি বিষয়। কেউ জ্ঞানী বা যোগ্য হলেই সামাজিক হয়ে ওঠে না। তাকে সমাজিকতার সবক নিয়ে চলতে হয়।

পৃথিবীর ইতিহাসে ‘ইসলাম ধর্ম’র চেয়ে সর্বাধুনিক ও সামাজিক কোনো ধর্ম হতে পারে না। কুরআন-সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কিরামের আদর্শ থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায় সুস্পষ্ট। আজ যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো সেটা হচ্ছে ‘মুকতাযায়ে হাল’ বা স্থান-কাল-পাত্রের ভেদজ্ঞান। সোজা কথায় কার সামনে কীভাবে কথা বলতে হয় সে বিষয়ে। তো চলুন মূল কথায় যাই। মহাগ্রন্থ আলকুরআনের সুরা হুজরাতে উল্লেখ আছে ‘হে মু’মিনগণ! নিজেদের আওয়াজ রাসুলের আওয়াজের চেয়ে উঁচু করো না এবং উচ্চস্বরে নবীর সাথে কথা বলো না, যেমন তোমরা নিজেরা পরস্পর বলে থাকো। এমন যেন না হয় যে, তোমাদের অজান্তেই তোমাদের সব কাজ-কর্ম ধ্বংস হয়ে যায়।’

যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসে ওঠাবসা ও যাতায়াত করতেন তাদেরকে এ আদব-কায়দা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়া হয়েছিলো। এর উদ্দেশ্য ছিল নবির সাথে দেখাÑসাক্ষাৎ ও কথাবার্তার সময় যেনো ঈমানদাররা তাঁর সম্মান ও মর্যাদার প্রতি লক্ষ রাখেন। কারো কণ্ঠ যেনো তাঁর কণ্ঠ থেকে উঁচু না হয়। তাঁকে সম্বোধন করতে গিয়ে কেউ যেনো একথা ভুলে না যায় যে, সে কোনো সাধারণ মানুষ বা সমকক্ষ কাউকে নয়, বরং আল্লাহর রাসুলকে সম্বোধন করে কথা বলছে। সে যেন সচেতন থাকে সাধারণ মানুষের সাথে তার কথাবার্তা এবং আল্লাহর রসুলের সাথে কথাবার্তার মধ্যে পার্থক্য থাকে। সে যেন তাঁর সাথে উচ্চস্বরে কথাবার্তা না বলে।

যদিও এ আদব কায়দাগুলো শেখানো হয়েছিল নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসের জন্য এবং সম্বোধন করা হয়েছিলো নবীর যুগের লোকদেরকে। কিন্তু যখনই নবির আলোচনা হবে কিংবা তাঁর কোনো নির্দেশ শুনানো হবে অথবা তাঁর হাদিসসমূহ বর্ণনা করা হবে এরূপ সকল ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ের লোকদেরও এ আদব-কায়দাই অনুসরণ করতে হবে। তাছাড়া নিজের চেয়ে উচ্চ মর্যাদার লোকদের সাথে কথাবার্তা ও আলাপ-আলোচনার সময় কী কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে এ আয়াত থেকে সে ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। কেউ তার বন্ধুদের সাথে কিংবা সাধারণ মানুষের সাথে যেভাবে কথাবার্তা বলে, তার কাছে সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিদের সাথেও যদি একইভাবে কথাবার্তা বলে তাহলে তা প্রমাণ করে যে, সে শিষ্টাচার শিখে নাই। অন্য কথায় ব্যক্তির প্রতি তার মনে কোন সম্মানবোধ নেই। সে তার নিজের ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোন পার্থক্য করার যোগ্যতা রাখে না।

আমার যতদূর মনে হয়, আমরা পূর্ণ সামাজিক হয়ে ওঠতে পারিনি। আমাদের আচরণে ঘাটতি রয়েছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, আমার চেয়ে সম্মানী, মুরব্বি বা বয়সে বড়দের সাথে তারতম্য বজায় রেখে কথা বলা। আদব রক্ষা করে পরিবেশ বুঝে নিজেকে জাহির করা। হতে পারে সেটা সরলতা থেকেও। কিন্তু অন্যজন উল্টো বুঝতে পারে। বেয়াড়া ধরে নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা উচিত। বড়দের সামনে নিরবতাই উত্তম আদর্শ। পরিবেশ সেরকম হলে বা সুযোগ হলে অসুবিধে নেই। কিন্তু তার আগেই জোরেশোরে কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত। বেয়াদবি বা অশিষ্ট আচরণ যেনো না হয়। আল্লাহ আমাদের সঠিক আমল করার তাওফিক দান করুন।

[৫/৪/২০১৯ তারিখে সিলেটের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক সিলেটের ডাকে প্রকাশিত]

সমাজচিন্তা

কৃত্রিমতা আমাদের গিলে খাচ্ছে

কৃত্রিমতা

কৃত্রিমতা হলো মেকিপনা, স্বভাবজাত না এমন। এই যেমন আমার যেভাবে হাঁটা দরকার ছিলো, সেভাবে হাঁটি না; নতুন একটা রূপ নিয়ে আসি। আমার মাঝে যে যোগ্যতা নেই, তাও আছে এমন ভাব দেখাই।

স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে প্রাণান্তকর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাই। আমার যা বলার ছিলো, তা না বলে বাড়তি বলি। আই মিন, কৃত্রিম একটা অবয়ব নিয়ে প্রকাশিত হই। এটা খুব খারাপ। নিজের জন্যও, সমাজের জন্যও। এটা অশ্লীল ভণ্ডামি।

মাঝে মাঝে চাপাবাজ কিছু কৃত্রিম মানুষদের দেখে চরম হাসি পায়। আসলে আমাদের জানার পরিধি কম। বাঙালি হলেই এমন হতে হয় কি না, জানি না। আমরা যতোটা না জানি তার চেয়ে বেশি বলি। এটা মেধা ও চিন্তার জন্য খুবই ক্ষতিকর। উচিত ছিল, জানবো বেশি বলবো কম।

আমরা সাহিত্যে পড়েছি, সাহিত্য দুই প্রকার। একটা হলো স্বভাবজাত সাহিত্য, আরেকটা হলো কৃত্রিম সাহিত্য। আমাদের চারপাশ খুঁজলে এই দুই প্রকারের সাহিত্য খুব সহজেই অনুমেয় হবে।

সাহিত্যে আবেদন হলো মূল। আমি পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পারলাম কি না সেটা মুখ্য। তার অন্তরে রেখাপাত করাই সাহিত্যের বড় সফলতা। ভাষা আমার সহজ হতে পারে। বাক্যের শৈল্পিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কতেক দুর্বোধ্য শব্দসমষ্টির সারি সারি স্তূপ নাও গড়তে পারি। এটা বিষয় না।

এর বাইরে যা আছে কৃত্রিম। জাল, নকল, অসত্য এবং অপ্রকৃত। যাক আমার টপিক কিন্তু সাহিত্য না। যেটা বলতো চাই, কৃত্রিমতা সবসময়ই অগ্রহণযোগ্য। ভ্যালুলেস। কৃত্রিমতা আমাদের গিলে খাচ্ছে। রুচিবোধ, ভালোবাসা, প্রেম সবই দুষ্প্রাপ্যতার বাজারে হারিয়ে যাচ্ছে। ভাণ্ডামিতে ছেয়ে গেছে সমাজ।

কারেকশন, সমাজচিন্তা

মুহাম্মাদ নামের সংক্ষেপণ বা এব্রিবিয়েশন সংক্রান্ত জরুরি কিছু কথা

লেখাটার সাথে হয়তো অনেকেই একমত হবেন, আবার অনেকে পুরনো ডায়ালগ মারবেন। কিন্তু লেখাটার গভীরতার দিকে একটু দৃষ্টি দিলে আশা করি কেউই আমার সাথে ভিন্নমত পোষণ করবেন না। তো আসুন কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় যাই।

‘নাম’ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আদম আলাইহিস সালামকে সর্বপ্রথম নামের শিক্ষাই দেয়া হয়েছিল। অস্তিত্বে যা কিছু আছে সবকিছুর একটা না একটা নাম আছে। থাকতে হয়। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত, সে হিসেবে তার নাম হতে হবে শুদ্ধ, সুন্দর ও শ্রুতিমধুর।

যা মনে চাইল তা’ই রেখে দিলাম, নামের আগে পরে ইচ্ছে স্বাধীন বিশেষণের স্তুপ লাগিয়ে দিলাম, অথচ সেগুলো ভুল না শুদ্ধ সেটা খেয়াল করলাম না, এটা অনুচিত। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কোনো ভুলকে আমরা এখনো চালিয়ে নিতে পারি না। তা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। সচেতন হওয়া দরকার।

২.
প্রথমেই নামের শুরুতে মুহাম্মাদ নিয়ে কথা বলি। হিন্দুরা উপমহাদেশীয় মুসলিম সম্মানি ব্যক্তিদের নামের শুরুতে তাদের সমাজে প্রচলিত ‘শ্রী’ ও ‘শ্রীমতি’র ব্যবহার শুরু করলে মুসলমানরা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষার গরজে নামের শুরুতে মুহাম্মাদ ব্যবহার শুরু করেন।

কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপারটি হচ্ছে উপমহাদেশের অন্য কোনো ভাষায় ‘মুহাম্মাদ’ শব্দটি এব্রিবিয়েশনের কবলে না পড়লেও বাংলা ভাষাভাষিদের কাছে এব্রিবিয়েশনের (Abbreviation) পাল্লায় পড়ে কোথাও মোঃ, কোথাও মুঃ, কোথাও মুহাঃ/মোহা:/ মুহা:/ মুহা./ প্রভৃতি আকার নিয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে।

একটু চিন্তা করুন তো, কতটুকু উচিৎ? কতটুকু শুদ্ধ? কতটুকু সুন্দর? একে তো সংক্ষেপণ, তদুপরি ভুল। আমরা জানি বিসর্গ(ঃ) বাংলা বর্ণমালার একটি বর্ণ বিশেষ। এটা কিভাবে সংক্ষেপণের চিহ্ন হতে পারে? বাংলা ভাষার কোন ব্যাকরণের বইয়ে এটিকে সংক্ষেপণের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে? এটা চলে আসা ভু্ল।

আমরা কি এ ভুল বহন করেই যাবো? অনেক নামী দামী লোকেরা ব্যবহার করে এসেছেন, তো সমস্যা কোথায়? কথাটা আরেকটি বোকামি। সময় সাশ্রয়ের কথা বলাটাও বালখিল্যতা বৈ কিছুই নয়।

৩.
আরেকটা বিষয় হলো নামের শুরুতে Md (এমডি)’র ব্যবহার। এটাই বা কেমন ব্যবহার! মুহাম্মাদ নামতো নিতে হয় প্রাণভরে, মনখুলে। কিন্তু এই কিপ্টেমি কেনো? পুরো মুহাম্মাদ লেখতে সমস্যা কোথায়? নিজের ভাষার উপর পণ্ডিতি করতে করতে অন্যের ভাষার উপর অযৌক্তিক এ পণ্ডিতি প্রদর্শন কেনো?

বিধর্মীদের যারা এই এব্রিবিয়েশন জানে না তারা বুঝবেটা কী? তারা যদি একটা অফিসের কয়েকজনের নামের শুরুতে এই এমডি দেখে একটা অফিসের বহুসংখ্যক এমডি (managing director) মনে করে হাসাহাসি করে তাহলে কি তাদের দোষ দেয়া যাবে?

কেউ যদি মেডিসিন ডক্টর (Medicinae Doctor) ধরে নেয় তাতেও দোষ দেওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ এটি একটি এহতেমালি বিষয়। সবাইতো আর আপনার এমডি’র মিনিং বুঝবে না। এখানেও সেই একই প্রশ্ন Muhammad বা Mohammad লেখলে অসুবিধাটা কী? কোথায় গলত?

৪.
ধরে নিচ্ছি আপনার জায়গা জমিনের বিশাল সঙ্কট। মুহাম্মদ নামটা লেখার মতো জায়গা আপনার নেই! যাকগে, আপনি যখন এব্রিবিয়েশন করবেনই তাহলে যতটুকু সম্ভব শুদ্ধভাবে করছেন না কেনো? কেনো এই অশুদ্ধর চর্চা?

আমার দাবি রাসূলে আরাবির নাম হিসেবেই যদি লেখেন তবে পুরো মুহাম্মাদই লেখবেন। আর সংক্ষেপণের প্রতীক হিসেবে(ঃ) এটা বাদ দিন। এটা সংক্ষেপ’র চিহ্ন না। বাংলাভাষায় সংক্ষেপের চিহ্ন কী সেটা জেনে নিন। প্রয়োজনে বাংলা একাডেরি দ্বারস্থ হোন।

তবে তার দরকার নেই। আমিই বলে দিচ্ছি। একান্তই যদি সংক্ষেপণ করবেন তাহলে ডট (.) ব্যবহার করুন। মোহাঃ/ মুঃ মোঃ না লেখে মুহা. বা মো. লিখুন। কিছুটা না হয় বিশুদ্ধতার কাছে আসুন। অশুদ্ধ চর্চার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসুন। অনুরোধ থাকলো।

৫.
এই যে আরেকটি বিষয়, মুহাম্মাদ অমুক আহমদ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দু’টি নামকে একসাথে নিয়ে আসা। টু ইন ওয়ান উইথ রিপিটেশন। নামে আহমদ থাকলে তো নবিজির নাম থাকলো। আবার মুহাম্মদ লাগানোর দরকার কি!

অথবা মুহাম্মদ থাকলে আহমদের দরকার কি? অনেকেতো তিনটা নামও ব্যবহার করেন! এই অতিরঞ্জনের কোনো মানে আছে? আর মহিলাদের নামের শুরুতে মুসাম্মাত লেখা আরেক সপ্তাশ্চর্যের ব্যাপার। মুসাম্মাত’টা এলো কোত্থেকে সেটার ইতিহাস অজানা?

মুসাম্মাত আরবি শব্দ। ইসমে মাফউলের সিগা। যার অর্থ, নামকৃত। নামের প্রারম্ভে এটা নিয়ে আসার কী যৌক্তিকতা? সম্ভব হলে আখতার, খাতুন আর বেগমের কাহিনীটাও জানাবেন।

৬.
সা. > আ. > রা. > রাহ. এ এব্রিবিয়েশনগুলোর ব্যাপারেও একই কথা। কেন করা হচ্ছে এসব? কেন এতো কিপ্টেমি। হাদিসের কিতাবাদীতে হাজার হাজারবার মুহাম্মাদ নাম আসে এবং প্রতিবারই পরিপূর্ণভাবে صلی اللہ علیہ وسلم লেখা হয়ে থাকে।

মুহাদ্দাসিনরা কেন এব্রিবিয়েশের পথে হাঁটেন না? একেতো এব্রিবিয়েশন, তদুপরি ব্র্যাকেট’র ইসতেমাল। বিশেষ করে সা.- এর ক্ষেত্রে—এটা মোটেও ঠিক না। মুহাম্মাদ রাসূল এর নাম শুনার সাথে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা ওয়াজিব।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘ঐ ব্যক্তির অকল্যাণ হোক, যার নিকট আমার নাম উচ্চারণ করা হলো, অথচ আমার উপর দুরুদ পাঠ করেনি’ – [তিরমিযি]। তো একে ব্র্যকেট ইউজ করে খাটো করবো কেনো?

অগোছালোভাবে কিছু কথা বললাম। ভুল হলে শুধরে দেবেন। শুদ্ধ হলে আসুন! ছড়িয়ে দিই। আমলে নিই। পুরোটা পরার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সমাজচিন্তা

বেয়াদবকাহিনী

ইবাদ বিন সিদ্দিক
ইবাদ বিন সিদ্দিক

বেয়াদব বয়স’র সাথে চুক্তিবদ্ধ না। যার আদব নাই সেই বেয়াদব। বয়স কম-বেশি’র কোনো এগ্রিমেন্ট নেই। ছোটরা তো করবেই; বড়রাও করে। এমন নজির বেশ দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। ভদ্রতা, অধৃষ্টতা ও শিষ্টতা যার মধ্যে নেই সেই বেয়াদব। সাচ্চা বেয়াদব।

সিমপ্যাথিহীন সমাজের অকুণ্ঠ এটেসটেইশন পাওয়া বড়রাই সবচেয়ে বড় বেয়াদব। তারা প্রতিনিয়ত ছোটদের একান্ত ব্যাক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। আত্মসন্মানবোধে আঘাত করে। সেলফরেসপেক্ট বলতে কিচ্ছু বোঝে না। বাম হাত ঢুকায়। আত্মনিয়ন্ত্রনের অধিকার কেড়ে নেয়। এরা দিনকে দিন, রাতকে রাত বেয়াদবী করছে।

আমি সকলের বন্ধু হতে চাই। কারো চোখগরম করা বড় ভাই অথবা বাধ্যগত ছোট ভাই হতে চাই না। মন চায় না। সায় দেয় না। এরচে’ বেশি বোঝলে দূরে যান। কমপক্ষে একশো হাত। আপনার অ্যানিমাই নিয়া আপনে থাকেন। যন্ত্রণা দিয়েন না।

শিক্ষা

মেধাহত্যা করবেন না সরকার

পৃথিবীর আর কোথাও এমন নজির আছে কিনা আমার জানা নেই। সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়ার মতো আত্মঘাতি ব্ল্যাকরুট পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। পরোক্ষ মদদে প্রশ্ন ফাঁস! একটি জাতিসত্তার অস্তিত্ব ধ্বংসে রাষ্ট্রীয় হর্তাকর্তাদের ভূমিকা শুধু লজ্জাজনকই নয়; বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে ফালতু একটি দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা। এটা রাষ্ট্রবিনাশী অসত কর্মযজ্ঞ। বিকৃত মস্তিষ্কের অশালীন কর্মকা-। ওরা নতুন প্রজন্মকে গলা টিপে হত্যা করতে চায়। যোগ্য ও মেধাবীদের অধিকার বঞ্চিত করছে। যে ছাত্ররা খাওয়া-নাওয়া ছেড়ে, রাতদিন পড়াশুনা করে, সুন্দর ভবিষ্যৎ দেখে, হাজারো স্বপ্ন বুনে তাদেরকে এভাবে ধ্বংস করে দেয়া আদৌ ঠিক না। চরম পর্যায়ের ঘৃণিত কাজ। এসবে একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কতোটা নীচুতে নিয়ে যায়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আফসোস! আমরা বাঙালি, বাঙলাদেশি।

ক’দিন ধরে পত্রপত্রিকায় দেখছি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। সারাদেশে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রাজপথে নেমেছ শিক্ষার্থীরা। ভর্তি-ইচ্ছুক ছাত্র-ছাত্রী আন্দোলন করছে। বিক্ষোভ করছে। মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। খুব একটা অবাক হইনি। আমাদের দেশে রীতিমত এটা হয়ে আসছে। নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ সরকার বরাবরই বিষয়টাকে ধামাচাঁপা দিয়ে আসছে। অস্বীকার করছে।

আমি অবাক হই এরকম ন্যক্কারজনক বিষয়টাকে সরকার কীভাবে প্রশ্রয় দেয়। সরকারের কাছে জানতে চাই, প্রশ্নপত্র যদি ফাঁস না হয়েই থাকে তাহলে কেনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মতো একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের একজন সহকারী পরিচালকসহ কয়েকজনকে র‌্যাব আটক করলো?

হুবহু ফাঁস হওয়া প্রশ্ন যেখানে মিলে যাচ্ছে সেখানে সরকার কেনো কার্যকরী প্রদক্ষেপ নিচ্ছে না? নীরব ভূমিকা পালন করার রহস্য কি? আইনের যথাযথ প্রয়োগ করছে না কেনো? উল্টো অস্বীকারের কথা বলছে। তদন্তের দোহাই দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেদিনই পদত্যাগ করা উচিত ছিলো।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ থেকে এ দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই না, প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতে কোনো কোনো গ্রুপ থেকে শীগগিরই যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে। মোবাইল অথবা ইনবক্সে যোগাযোগের পরামর্শও দেয়া হয়েছে। কারা করছে এসব? কার মদদে পঙ্গু করা হচ্ছে অসংখ্য মেধাবীদের। এদের পরিচয় কি? কতো টাকার বিনিময়ে হচ্ছে এসব? আমাদের জানা দরকার। সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়া কি এ পর্যন্ত আসা সম্ভব? আমরা জানতে চাই। শিক্ষাঙ্গণে দুর্নীতির তকমা লাগাতে চাই না। দুর্নীতিবাজ এবং শিক্ষিত শয়তানদের চিহ্নিত করা হোক। জনতার সামনে দাঁড় করানো হোক। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

যদি সরকারের বিভিন্ন মহলের একাংশ জড়িত না থাকতো তাহলে তাদের পক্ষে কখনই প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্ভব হতো না। আমরা জানি, পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আইন আছে, যে আইন ১৯৮০ সালে বাস্তবায়িত হয়। সেই আইনে এই ধরনের অপরাধে যারা জড়িত তাদের কমপক্ষে ১০ বছরের সাজা দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু আইনটি ১৯৯২ সালে সংশোধন করে সাজার মেয়াদ মাত্র ৪ বছর করা হয়েছে। আইনে এই ধরনের সাজার মেয়াদ কমানোর ফলে আসামীরা প্রশ্ন ফাঁস করতে বেশি সাহস পায়। সুতরাং এখনই যদি আইনের প্রয়োগ না হয়, আমি হলফ করে বলতে পারি আগামীতে আরো ঢিলেঢালা হবে। আরো সাহস পাবে।

দোহাই লাগে, আমাদের মেরুদ- ভেঙ্গে দিবেন না। শিক্ষার্থীদের পঙ্গু বানিয়ে জীবন নষ্ট করার মতো দুঃসাহস করবেন না। তারা শিক্ষাঙ্গণে কোনো প্রশ্নব্যবসায়ী দেখতে চায় না। শিক্ষা নিয়ে রমরমা ব্যবসা আর মোটা অংকের টাকা বিনিময় করে শিক্ষাবিদ হতে চায় না। এরা মেধাবী হয়ে বাঁচতে চায়। সত্যিকারের বুদ্ধিজীবী হতে চায়। সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চায়। ফাঁশ প্রশ্নে পাশ করতে চায় না। দুর্নীতি শিখে বড়ো হতে চায় না।

প্লিজ সরকার, মেধা হত্যা করবেন না। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর অন্ধকারে ঠেলে দিবেন না। তাদেরকে পবিত্র রাখুন। তারা বাঁচুক, মানুষের মতো মানুষ হয়ে ।

ধর্ম, সরকার

মূত্রবিসর্জন ও ধর্মমন্ত্রণালয়ের ভণ্ডামি

যেখানে সেখানে মূত্রবিসর্জন ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন দেয়ালে আরবি ভাষা ব্যবহারের অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছে ধর্মমন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশন। ক’দিন ধরে শুরু হয়েছে ঢাকার বিভিন্ন দেয়ালে আরবি ভাষায় দেয়াল লিখন। প্রকাশ পাচ্ছে ‘যেখানে সেখানে প্রস্রাব না করার’ বার্তা।

ভাবছিলাম এ বিষয়ে কিছু একটা লিখবো। ব্যস্ততার কারণে ইচ্ছেটা ঘুরে যায়। কিন্তু না লিখে পারছি না। একটু দেরিতে হলেও লিখতে হলো। আমাদের দেশের সাংসদ-মন্ত্রীরা যা শুরু করছেনে তাতে আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশের হাল-হকীকত কতটুকু চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছিলো। আমরা লক্ষ্য করেছি, কিছুটা কাজও হয়েছে। এবং সাথে সাথে লক্ষ্য করলাম সরকারের মন্ত্রীদের অদূরদর্শী কর্মকাণ্ডও। দেখলাম তাদের মেধাশূণ্যতার হালচাল।

বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের একটি ভিডিও ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পাচ্ছে। এতে তিনি বলছেন, ‘দেখা যাচ্ছে ঢাকা শহরের মসজিদগুলোতে প্রস্রাবের জায়গা থাকলেও অনেকে বাইরে প্রস্রাব করছে। ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না’ লেখা দেয়ালেও লোকে প্রস্রাব করছে’।

আমরা বরাবরই এমন কিছু আত্মঘাতি কাজ করি যেগুলো হয় ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক, হয় ধর্মের প্রতি চরম ধৃষ্টতা। ধর্মমন্ত্রণালয় যত্রতত্র প্রস্রাব বন্ধে যে উদ্যোগটি নিয়েছে সেটি কোনো বিবেকবান, রুচিশীল ও ধর্মপ্রাণ মানুষ মেনে নিতে পারে না। বিশেষ করে ৯০ভাগ মুসলমানের দেশে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ভিডিওটিতে বলা হয়েছে, ‘৯০ ভাগ মুসলিম-অধ্যুষিত বাংলাদেশে আরবি একটি পবিত্র ভাষায় হিসেবে বিবেচিত, যদিও খুব কম লোকই এ ভাষা জানেন বা বুঝেন। তাই প্রকাশ্যে প্রস্রাব না করার বার্তাটি রাস্তার পাশের দেয়ালগুলোতে আরবি ভাষাতে লিখে দিচ্ছেন’।

ভাবতে আবাক লাগে, আমাদের চিন্তা-চেতনা আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে! প্রস্রাব বন্ধে কি আর কোনো পথ ছিলো না? আর কোনো কৌশল পাওয়া গেলো না? একটি ভাষার অপব্যবহার করতে হবে কেনো? আমরা এতোটা খারাপ কেনো? বিশ্বের কাছে কি আদৌ আমরা ভালো কিছু জানান দিতে পারবো? নাকি বস্তাপচা আইডিয়ার প্রসবই করে যাবো?

মানবজাতির সর্বপ্রকার সমস্যা সমাধানের একমাত্র ঠিকানা ঐশিগ্রন্থ ‘আলকুরআন’। আমরা জানি এ মহাগ্রন্থটি আরবি ভাষায়। অবর্তীণ হয়েছে বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ সা. এর উপর। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই আরবি ভাষার প্রতি মানুষের দুর্বলতা থাকবে। আরবি ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকবে। কিন্তু এ বিষয়টিকে পুঁজি করে আরেকটি ফায়দা হাসিলের কাজ কেনো করতে হবে?

সরকারের পক্ষ থেকে যথাস্থানে পাবলিক টয়লেট বানিয়ে দিলেই তো হয়ে যায়। এটা তো জটিল কিছু না! তখন আর কেউ যেখানে সেখানে প্রস্রাব করবে না। এর জন্য একটি ভাষাকে পুঁজি বানিয়ে ভণ্ডামো করার তো কোন প্রয়োজন দেখছি না?

‘কোথাও কোথাও আবার দিকনির্দেশক চিহ্নসহ আরবির পাশাপাশি বাংলাতেও লেখা হচ্ছে : ‘১০০ হাত দূরে মসজিদ’ অর্থাৎ বলে দেয়া হচ্ছে যে সেখানে গেলে প্রস্রাবের জায়গা পাওয়া যাবে’।

ধর্মমন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, মসজিদগুলোকে কি আপনার বাপের টাকায় বানানো? মসজিদকে পাবলিক টয়লেট বানাতে চান? মসজিদ কি প্রস্রাব-পায়খানা করার জাগা? এতো ফাউল চিন্তা আপনার মাথায় কীভাবে আসলো? মসজিদ হলো এবাদতখানা। এখানে মুসল্লীরা তাদের প্রয়োজনমতো হাজত পুরা করবে।

এতে আরো বলা হয়, ‘ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই অভিনব উদ্যোগ ইতিমধ্যেই দারুণ কার্যকর হয়েছে’। এটাও একটা ভুল কথা। এ কার্যকর স্থায়ী না। কারণ মিডিয়ায় প্রকাশ করে দিয়েছেন আপনাদের ভেলকিবাজী। কিছুদিন পর যখন সবাই যেনে যাবে আসলে এটা ছিলো একটি কৌশলমাত্র। আরবিতে প্রস্রাব না করার কথাই লিখা ছিলো। তখন দেখা যাবে, আরবির প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা কমে গেছে। ভীতির অনুভূতি লুপ্ত হয়ে যাবে। কোথাও আরবি লেখা দেখলে সম্মান করবে না। এমনকি যারা আরবি বুঝে না তারা যখন কোথায় কুরআনের আয়াত পড়ে থাকতে দেখবে তখন কিছু মনে করবে না। একটা সময় কুরানের আয়াতের উপর দিয়ে হাটলেও বুঝবে না যে, এটা ছিলো কুরআনের আয়াত! এর দায়ভার কে নিবে? আসলে আপনাদের এ ভাবনাটি সম্পূর্ণ উদ্ভট এবং বিকৃত মস্তিষ্কের কাণ্ডজ্ঞানহীন অসত চিন্তাধারা।

সবশেষে বলবো, দেশের জন্য ভালো কিছু করুন। এ দেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের। একটু বুঝে-শুনে চিন্তা-ফিকির করুন। মাথায় যাই আসলো তাই করে ফেলবেন! এটা কিন্তু ঠিক না, লোকে পাগল বলে। আর মন্ত্রণালয়ের যদি কোনো কাজ থাকে না তাহলে মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিন। মানুষের কাতারে আসেন। মানুষ হন।

  • 1
  • 2